কৃষ্ণচূড়া গাছ

                           —অহিন্দ্রী ব্যানার্জী


 আমি দেখেছি সে কৃষ্ণচূড়ার গাছ

প্রকান্ড ডালপালা দিয়ে বোনা বিস্তর ছাওয়া তার,

আর–

টকটকে লাল চেলিতে অপূর্ব শৃঙ্গার।


যেখানে সে ছিল দাঁড়িয়ে

আমি দেখেছি তাকে অনেক দূরে

তার শিকড় আমার পায়ে বেড়ি বেঁধেছিল


আমি খুঁজেছিলাম মুক্তির পথ,

হেঁটেছিলাম তো–

কিন্তু, কাঁটাতার!

পেরোতে রক্তাক্ত হয়েছিলাম সেদিন।


কিন্তু আসলে যে আমি অনেককাল আগেই সে কাঁটাতার পেরিয়ে,

পৌঁছেছিলাম কৃষ্ণচূড়ার কাছে–

সেইদিন, যেদিন আমার বাগানে ওর শিকড় আমার পা বেঁধেছিল।


বুঝেছিলাম কৃষ্ণচূড়া অনির্বাণ!


তবে যেদিন আমি রক্তাক্ত হয়েছিলাম সেদিন ছিল শীতকাল,

কৃষ্ণচূড়া বড় মায়াবী, 

যেন শেষ পাপড়িটুকু রেখেছিল আমায় সহানুভূতি দেখাতে আমার কপালে চুমু খেয়ে আমার রক্তে মিশতে–


আমিও লুটিয়েই পড়েছিলাম।

শক্তি ছিলনা আমার মোটেই।


আলতো করে যেন কে ছুঁয়ে যায় কপালে–

কে? কে?

খুব চেনা স্পর্শ!


চোখ খুলে দেখি, সেই কৃষ্ণচূড়া....


শীতের শোষণ ভেঙে বসন্ত এনেছিল সেদিন সে

টকটকে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছিল চারিদিকে—


সাহসে ভরা অগ্নিচক্ষু দেখে

খুব উৎসাহে যখন উঠে দাঁড়াই,

পেশিতে যেন টান ধরেছে তখন

দুমড়ে পড়ি কাঁটাতারের ওপর —

কিন্তু....

কিন্তু এবার আর আমার ক্ষীণ দেহটাকে আটকাতে পারেনা সে!


উপড়ে আসে সেই মাইল-দীর্ঘ শেকল মাটি থেকে,


আমার কৃষ্ণচূড়া সে মাটি নরম করেছে....



Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

From a damn HINDU DEVOTEE to an ATHEIST

নারী দিবস: শ্রম, নারী ও আন্তর্জাতিকতাবাদ