আমাদের শৈশব কেটে গেছে ইমারতে
----অহিন্দ্রী ব্যানার্জী
আমাদের শৈশব কেটে গেছে ইমারতে,
চুরি গেছে শৈশব ওদের ধূলোভরা ফুটপাথে
মুলতুবি রয়েছে পাওনা যত ভন্ডামির লালসাতে
মুখ চেয়ে রয়ে,উঁকি দিতে চায়, চায় বেড়িয়ে আসতে
রাস্তার ধারে,ঘেরা গাছের ডালে,কাপড়ে বাঁধা দোলনায়
অকৃত্রিম মুখের হাসি যেন কান্নার ডাক পাঠায়।
খুব চেনা রাস্তাগুলো যেন নতুন গল্প দেখায়,
দূর থেকে চোখ পড়ে যায়, নর্দমার জলে খেলে
আমরা সব গা বাঁচাই, ভিজি বৃষ্টি হঠাৎ নেমে এলে
আমাদের মহাভোজ পাঁচতারায় নিয়ন আলোয়
স্ট্রিট লাইটে ফাঁকা প্যাকেট খুঁজে, বোজে পেট ঝুপড়ি গুলোয়।
রোদে তাতা রেললাইনে, ওরা খেলনা রেল চালায়
খোকাবাবুদের বায়না সৌখিন, এসব কী মানায়?
একটা সাইকেলের টিউবে লাঠি আর ওরা মজা পায়,
বড় বাড়ির বউরা বাচ্চাদের থাকতে দূরে শেখায়।
আমাদের জীবন কত রঙিন স্বপ্নে ঠাঁসা,
ওরা বাঁচে প্রতিদিন উদ্দেশ্য পরের দিন উঠে বাঁচা।
ওদের সঙ্গে হেঁটে দেখো ফুটপাথে,
ঝকঝকে পরিপাটি শহর নিখুঁত দেখা বদলাতে
লাল টুকটুকে খুকুমণিরা স্কুল বাসে স্কুল যায়,
খুব নোংরা খুদেরা তখনও বস্তা ভরে যা কুড়ায়।
ভোগ বিলাসিতার দ্রব্য ব্যবহৃত বর্জ্য হয়ে যায়,
আমাদের ডিজেল আর পেট্রোলের কালি,
পুরিয়েছে চামড়া ওদের,আর আমরা এড়িয়ে চলি।
আমাদের ভাবনা কত, আমরা শরৎ চ্যাটার্জী জানি!
ওরাই সেই কথাশিল্প, আমরা চিনতে পারিনি।
চার দেওয়ালে শেল্ফে তাকিয়ে কী সংগ্রাম বোঝা যায়?
ভারী শব্দে বড়জোর দু চার কথা বলা যায়।
ওরা হয়ত পকেটমারি করে পেটটা চালায়।
ভদ্রলোক আমরা ভারী তাই ভদ্রভাবে লোক ঠকাই।








Comments
Post a Comment